সুপার লিগের পয়েন্ট টেবিলে ভারতকে পেছনে ফেলল টাইগাররা

নতুন বছরের প্রথম ম্যাচ কিংবা দীর্ঘ দশ মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা- এ দুইয়ের বাইরেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচের গুরুত্ব ছিল আরও বেশি। কী সেটি? দুই দলের জন্যই ওয়ানডে সুপার লিগের প্রথম ম্যাচ তথা সিরিজ এটি। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার জন্য ওয়ানডে সুপার লিগে শীর্ষে আটে থাকতেই হবে।

এ ওয়ানডে সুপার লিগে নিজেদের প্রথম সিরিজের প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশিত জয়ই পেয়েছে বাংলাদেশ দল। সাকিব আল হাসানের ৮ রানে ৪ উইকেট, হাসান মাহমুদের ৩ উইকেট ও তামিম ইকবালের ৪৪ রানের ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশ পেয়েছে ৬ উইকেটের জয়। আগে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অলআউট হয় ১২২ রানে। বাংলাদেশ যা তাড়া করেছে ৩৩.৫ ওভার খেলে।

প্রথম ম্যাচে প্রথম জয় দিয়ে ওয়ানডে সুপার লিগে পয়েন্টের খাতাও খুলল বাংলাদেশ। একইসঙ্গে সুপার লিগের পয়েন্ট টেবিলে ভারতকে পেছনে ফেলে দিয়েছে টাইগাররা। কেননা আজকের ম্যাচের পর বাংলাদেশের পয়েন্ট এক ম্যাচে ১০ এবং ভারতের নামের পাশে রয়েছে তিন ম্যাচে ৯ পয়েন্ট। ফলে ১ পয়েন্টে এখন এগিয়ে বাংলাদেশ। ৪০ পয়েন্ট নিয়ে এই তালিকায় সবার ওপরে অস্ট্রেলিয়া।

আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপে কোয়ালিফায়িংয়ের জন্য শুরু করা ওয়ানডে সুপার লিগের পয়েন্ট সিস্টেম অনুযায়ী, প্রতি জয়ের জন্য দেয়া হবে ১০ পয়েন্ট। সে হিসেবে আজকের ম্যাচটি জেতায় বাংলাদেশ পেয়েছে পূর্ণ ১০ পয়েন্ট। একইভাবে ভারতেরও পাওয়ার কথা ছিল ১০ পয়েন্ট। কারণ তারা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে জিতেছিল শেষের ম্যাচটি। কিন্তু তাদের নামের পাশে ৯ পয়েন্ট। কারণ কী?

পয়েন্ট বণ্টনে পরিষ্কার করেই বলা আছে, ওয়ানডে সুপার লিগের প্রতি ম্যাচে স্লো ওভার রেটের জন্য জরিমানার পাশাপাশি গুনতে হবে পয়েন্ট কর্তনের শাস্তিও। অসিদের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচে এই স্লো ওভার রেটের অপরাধেই ধরা পড়েছে ভারত। সেই ম্যাচে স্লো ওভার রেটের কারণে জরিমানা গুনতে হয়েছে ভারতের সবার। একইসঙ্গে কাটা হয়েছে একটি পয়েন্ট। ফলে তাদের বাকি ছিল ৯ পয়েন্ট।

ওয়ানডে সুপার লিগে এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৬ ম্যাচ খেলেছে অস্ট্রেলিয়া। যেখানে ৪ ম্যাচ জিতে ৪০ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে তারা। সমান ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট দ্বিতীয় স্থানে ইংল্যান্ডের, তৃতীয় স্থানে ২০ পয়েন্ট পাওয়া পাকিস্তান। বাংলাদেশ, জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ডের রয়েছে সমান ১০ পয়েন্ট করে।

এই ওয়ানডে সুপার লিগ চলবে ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত। তখন আইসিসির পূর্ণাঙ্গ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আয়োজক ভারত এবং অন্য সাত দল পাবে সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার টিকিট। বাকি পাঁচ দলকে সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে খেলতে হবে বাছাইপর্ব। সেখান থেকে বিশ্বকাপে আসবে আরও দুই দল। এ দশ দল নিয়েই হবে ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *